1. press.sadique@gmail.com : Polash Hasan : Polash Hasan
  2. admin@newsdotbd.com : superman :
গৌরীপুরে রঙিন বিটরুট চাষে আজিজুলের বাজিমাত! - NewsDotBD
October 28, 2026, 10:27 pm

গৌরীপুরে রঙিন বিটরুট চাষে আজিজুলের বাজিমাত!

  • Update Time : Wednesday, March 4, 2026
  • 134 Time View

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

মাটির নিচে রঙিন ফসল। কাটলেই বেরিয়ে আসে টকটকে লাল শাঁস। থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় সবজি ‘বিটরুট’ এখন ময়মনসিংহের গৌরীপুরের মাঠজুড়ে। ভিনদেশি এই ফসল চাষ করে এলাকায় রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষক আজিজুল হক। স্বল্প খরচ আর অধিক লাভে তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য দেখে এখন বিটরুট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এলাকার অন্য কৃষকরাও।

উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের পল্টিপাড়া গ্রামের আজু মিয়ার ছেলে আজিজুল হক। গত বছর মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে বিটরুট চাষ করে তিনি ৩০ হাজার টাকা আয় করেছিলেন। যেখানে তাঁর খরচ হয়েছিল মাত্র ১ হাজার ৪৬০ টাকা। সেই আত্মবিশ্বাস থেকে এবার তিনি ১৭ শতাংশ জমিতে এই পুষ্টিকর সবজির আবাদ করেছেন।

আজিজুল হক জানান, ইতিমধ্যে মাত্র ২ শতাংশ জমির বিটরুট তিনি ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। খেত থেকে আরও কয়েক হাজার টাকার ফসল বিক্রি হবে। এছাড়া বড় একটি জমিতে যে পরিমাণ বিটরুট রয়েছে, সেখান থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

তাঁর ছেলে মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “বিটরুট দেখতে যেমন রঙিন, বাজারে এর দামও ভালো পাচ্ছি। এলাকার অনেকেই প্রতিদিন আমাদের খেত দেখতে আসছেন।”

স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, প্রথমদিকে এই ফসল চাষে কেউ আগ্রহী ছিল না কিন্তু আজিজুল হকের সাফল্যে এখন কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তাঁর অনুপ্রেরণায় পাছার গ্রামের দুলাল মিয়া ও আবুল বাসারের মতো আরও অনেক কৃষক এখন বাণিজ্যিকভাবে বিটরুট চাষ শুরু করেছেন।

ধোপাজাঙ্গালিয়া গ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিটরুট চাষ অত্যন্ত সহজ এবং খরচও অনেক কম। এটি যে এত লাভজনক, তা আগে জানতাম না।”

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বিটরুট একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, “বিটরুট উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তস্বল্পতা দূর করা, লিভার পরিষ্কার রাখা এবং ক্যানসার প্রতিরোধসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।” সামনে মাহে রমজান হওয়ায় ইফতারে বিটরুটের জুসের বাড়তি চাহিদাও রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন জলি বলেন, “এই উপজেলায় প্রথম বিটরুট আবাদ করে সফল হয়েছেন আজিজুল হক। বিটরুট চাষে তাঁর এই সাফল্যের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। যেহেতু এটি অত্যন্ত লাভজনক, তাই আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছি।”
আজিজুলের এই সাফল্য দেখে একই গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফও মনস্থির করেছেন আগামী মৌসুমে তিনি বিটরুটের চাষ করবেন। মাটির নিচের এই ‘রঙিন সোনা’ এখন গৌরীপুরের কৃষকদের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Developed By POPCORN IT