এনাম আহমেদ মাসুদ
দুর্নীতি—বাংলাদেশের রাজনীতিতে আজ আর শুধু অনিয়মের অভিযোগ নয়। এটি ক্রমেই পরিণত হয়েছে ক্ষমতার রাজনীতির একটি কার্যকর হাতিয়ারে।
কিন্তু দুর্নীতিকে ঘিরে যে রাজনৈতিক ভাষ্য তৈরি করা হচ্ছে, তার ভিত্তি কি পুরো সত্য, নাকি বাছাইকৃত পরিসংখ্যানের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা— সেই প্রশ্নই এখন সামনে।
“দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন”— এই শব্দগুচ্ছটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বক্তৃতা, নির্বাচনী প্রচার এবং জনমত তৈরির আলোচনায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই দাবির পেছনের তথ্য ও সময়কাল নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
২০০১ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত দুর্নীতি সূচক তৈরি হয়েছিল ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে— যে সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে আনা হয়।
পরবর্তী সরকারকে দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে এই সূচককে ব্যবহার করা হয় একতরফা রাজনৈতিক ভাষ্যে। অন্যদিকে, পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতি সূচকে কিছুটা উন্নতির চিত্র লক্ষ্য করা যায়।
২০০১ সালে স্কোর: ০.৪,২০০২ সালে: ১.২,২০০৬ সালে: ২.০ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংখ্যা নিজে নিরপেক্ষ হলেও রাজনৈতিক বক্তব্যে সেই সংখ্যার ব্যাখ্যা বদলে যায়।
গত দেড় দশকে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে।মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ, ব্যাংক খাতে অর্থ লুট এবং অর্থ পাচারের ঘটনায় বাংলাদেশ একাধিকবার আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। পানামা পেপার্স,বিদেশে গোপন সম্পদের তথ্য এবং তথাকথিত ‘বেগমপাড়া’— এসব ইস্যু দুর্নীতির বিতর্ককে নিয়ে গেছে বৈশ্বিক পরিসরে।
এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে— নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে
দুর্নীতির অপপ্রচার চালাচ্ছে কি না।
বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতপন্থী রাজনৈতিক বলয় পুরোনো তথ্য ও নির্বাচিত পরিসংখ্যান ব্যবহার করে বিএনপিকে ঘিরে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে— যা রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত হলেও বাস্তব তথ্য যাচাইয়ের দাবি জোরালো করছে। তাই প্রশ্নটা এখন আর রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়।
আসল প্রশ্ন— দুর্নীতি কি কেবল রাজনৈতিক স্লোগান, নাকি এটি জবাবদিহি ও সুশাসনের মৌলিক প্রশ্ন? সংখ্যা নয়, সত্য ও স্বচ্ছতাই পারে জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে।
Leave a Reply