মাসুদ আলম, বরগুনা
বাবার স্নেহ নেই, নেই মাথার ওপর শক্ত কোনো ছাদ। আছে শুধু এক টুকরো পলিথিনের নিচে তিন প্রজন্মের বাঁচার আকুতি। বরগুনার বেতাগী উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের ছোপখালি গ্রামে অশীতিপর নানী আর বিধবা মাকে নিয়ে এক পলিথিনের ছাপড়ায় দিন কাটছে স্কুলছাত্রী মারিয়ার। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত এই তিন নারীর জীবন।
এক চিলতে জমি, তার ওপর নড়বড়ে বাঁশের খুঁটি আর ছিঁড়ে যাওয়া পলিথিনের ছাউনি। এটি কোনো অস্থায়ী আশ্রয় নয়, বরং হাসনাবাদ ইউনিয়নের ছোপখালি গ্রামের স্কুলপড়ুয়া মারিয়ার দীর্ঘদিনের চেনা ঘর। এই পলিথিনের দেয়ালই আগলে রাখে তিনটি প্রাণকে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত বৃদ্ধা নানী আর সহায়-সম্বলহীন বিধবা মায়ের সবটুকু ভরসা এখন কিশোরী মারিয়া।
স্বামী হারিয়েছেন অনেক আগে। মানুষের দ্বারে দ্বারে কাজ করে যা জোটে, তা দিয়ে নানী আর মেয়ের মুখে দুবেলা অন্ন তুলে দেওয়াই যেখানে বিলাসিতা, সেখানে ঘর সংস্কার যেন আকাশকুসুম কল্পনা। বৃষ্টির দিনে বই খাতা বাঁচাতে মারিয়ার যুদ্ধ চলে পলিথিনের ফুটো দিয়ে পড়া পানির সাথে।
মারিয়ার মা বলেন “মাইয়াডারে নিয়া খুব ডরে ডরে থাহি। এই ছাপড়ার কোনো নিরাপত্তা নাই। ঠান্ডায় মা (নানী) বুড়ি মানুষ খুব কষ্ট পায়। নিজের একটা ঘর থাকলে মইরাও শান্তি পাইতাম।
বেতাগীর এই নিভৃত পল্লীতে মারিয়াদের জীবন যেন থমকে আছে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে। সরকারি আবাসনের তালিকায় কত নাম আসে-যায়, কিন্তু ছোপখালি গ্রামের এই তিন নিঃস্ব নারীর দ্বারে আজও পৌঁছায়নি কোনো পাকা ঘরের আশ্বাস।
একটি নিরাপদ ঘর কেবল একটি কাঠামো নয়, মারিয়ার মতো হাজারো প্রান্তিক শিক্ষার্থীর জন্য এটি একটি স্বপ্ন জয়ের শক্তি। প্রশাসনের সামান্য সদিচ্ছাই পারে ছোপখালি গ্রামের এই তিন প্রজন্মের মুখে হাসি ফোটাতে। মারিয়ার স্বপ্ন কি পূরণ হবে, নাকি পলিথিনের নিচেই ধামাচাপা পড়ে যাবে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ?