বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বুয়েট ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ছিল ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে বিভিন্ন কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী।
এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন ভর্তি কমিটিসমূহের সভাপতি ও পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল জলিল। পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও মনোযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য কোনো পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ না করে বাইরে থেকেই সার্বিক তদারকি করেন।
ভর্তি পরীক্ষায় প্রকৌশল বিভাগসমূহ, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের জন্য মডিউল-‘এ’ এবং প্রকৌশল বিভাগসমূহ, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ ও স্থাপত্য বিভাগের জন্য মডিউল-‘বি’ নির্ধারিত ছিল।
প্রথম শিফটে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মডিউল-‘এ’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপের পরীক্ষার্থীদের জন্য উচ্চতর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। দ্বিতীয় শিফটে বিকেল ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মডিউল-‘বি’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই শিফটে ‘খ’ গ্রুপের পরীক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত পাঠ্যসূচির আওতায় মুক্তহস্ত অঙ্কন (ফ্রি হ্যান্ড ড্রইং) এবং দৃষ্টিগত ও স্থানিক ধীশক্তি (ভিজ্যুয়াল-স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স) বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
সব সঠিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে বাছাই করে মেধা অনুযায়ী ১০ হাজার ৩৫১ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে হাত্র ৭ হাজার ৬৪৪ জন এবং ছাত্রী ২ হাজার ৭০৭ জন। নির্বাচিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৯ হাজার ৫১ জন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
কেমিক্যাল এন্ড ম্যাটেরিয়ালস কৌশল, পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল এবং স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদসমূহের অধীনে মোট ১৩টি বিভাগে স্নাতক শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হবে। এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য এলাকার ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীভুক্ত প্রার্থীদের জন্য প্রকৌশল বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের জন্য মোট ৩টি সংরক্ষিত আসন (কোন বিভাগে ১টি আসনের বেশী নয়) ও স্থাপত্য বিভাগের জন্য ১টি সংরক্ষিত আসনসহ সর্বমোট ১ হাজার ৩০৯টি আসনের জন্য ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
ভর্তির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ও অপেক্ষমান প্রার্থীদের নামসহ মেধাক্রমের তালিকা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।