আবু কাওসার মাখন, রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীর স্বাস্থ্যখাতে এক নির্মম বাস্তবতা যেন প্রতিনিয়ত সামনে আসছে। একদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ আইসিইউ সংকটে শিশু মৃত্যুর মিছিল, অন্যদিকে প্রায় ২০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে অচল অবস্থায়—যেন শুধুই একটি কংক্রিটের কাঠামো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত আড়াই মাসে আইসিইউ-এর অভাবে ৫৩টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শেষ ১১ দিনেই ঝরে গেছে ৩৩টি প্রাণ। প্রতিটি মৃত্যু একটি পরিবারকে শোকের সাগরে ভাসিয়েছে, ভেঙে দিয়েছে অসংখ্য স্বপ্ন। এই মৃত্যুগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়—এগুলো অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার নির্মম প্রতিচ্ছবি।
অভিযোগ উঠেছে, যখন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ আইসিইউ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, ঠিক সেই সময়েই প্রায় তিন বছর ধরে নির্মিত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালটি ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। আধুনিক সুবিধা থাকার পরও কেন হাসপাতালটি চালু করা হচ্ছে না—এ প্রশ্ন এখন রাজশাহীবাসীর মুখে মুখে।
স্বাস্থ্যসেবার মতো একটি মৌলিক অধিকার নিয়ে এমন উদাসীনতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। একটি হাসপাতাল চালু না হওয়ার পেছনে প্রশাসনিক জটিলতা থাকতেই পারে, কিন্তু সেই জটিলতার মূল্য যদি দিতে হয় নিষ্পাপ শিশুদের প্রাণ দিয়ে—তাহলে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
রাজশাহীবাসীর এখন একটাই দাবি—অবিলম্বে এই শিশু হাসপাতালটি চালু করা হোক। প্রয়োজনীয় জনবল, সরঞ্জাম ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা জরুরি।
নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান—আর একটি শিশুর প্রাণও যেন আইসিইউ-এর অভাবে না ঝরে। একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।